বগুড়া শেরপুরের মারামারির ঘটনায় আহত মতিয়ার রহমানের মৃত্যু : হত্যা মামলা দায়ে
শেরপুর প্রতিনিধি :
গত ২২ মার্চ সকাল ১১ টার সময় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের শরিফ সুঘাট গ্রামের জনৈক মোঃ টুকু মাতবরের বাড়ীর সামনে বিবাদী মোঃ বেলাল (৫৫), বিগত ৫ বছর পূর্বে ভিকটিম মতিয়ার রহমানের ভাতিজী মোছাঃ মোমেনা খাতুনের নিকট থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধার হিসাবে নেয়। বেলাল টাকা ধার হিসাবে টাকা নিয়েছিল, ভিকটিমের ভাতিজী মোমেনাকে বলে যে,আমি টাকার বিনিময়ে-২ শতাংশ জমি দিবে।
পরে ভিকটিমের ছেলে শফিকুল বেলালের নিকট টাকা ও জমি চাইতে গেলে আজ দিবে কাল দিবে বলে কালক্ষেপন করে।
বেলাল ভাতিজীকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তার বড় ভাই জনৈক মোঃ নুর মোহাম্মদের জায়গায় বসত বাড়ী করে দেয়। বর্তমানে মোমেনা উক্ত জায়গায় বসবাস করছে।
গত (২১ মার্চ) রাতে ভাতিজী মোমেনা বেলালের নিকট ধারের টাকা চাইতে গেলে বেলাল মোমেনাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। ভিকটিম মৃত মতিয়ার রহমান এসে মীমাংসা করে দেয়।
এরই জের ধরে গত (২২ মার্চ) সকাল ১১ টার সময় শরিফ সুঘাট গ্রামের জনৈজ মোঃ টুকু মাতবর (৪৫) এর বাড়ীর সামনে ভিকটিম মতিয়ার রহমান (৬৯) এর, বিবাদীগণ তার পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালি-
গালাজ করতে থাকলে ভিকটিম গালি-গালাজ করতে নিষেধ করলে বেলাল বলে যে, শালাকে প্রাণে মেরে ফেল, এই কথা শুনে শাহিনের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলো
পাথাড়ী মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে বাদশার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে ভিকটিমের ডান পায়ে স্বজোরে আঘাত করে হাড়ভাঙ্গা জখম করে তখন ভিকটিম মাটিতে পড়ে গেলে শাহাদত তার হাত দিয়ে ভিকটিমকে চোখে ও মুখে এলোপাথাড়ী ভাবে ঘুষি মারলে ভিকটিমের সামনের ৩টি দাঁত ভেঙ্গে পড়ে।
ভিকটিম মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তার শার্টের সামনের পকেটে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা রুবেল কৌশলে নিয়ে নিলে তখন ভিকটিমের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
ভিকটিমের ছেলে শফিকুল সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা অটোযোগে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কত্যর্বরত চিকিৎসক ভিকটিমকে বিভিন পরীক্ষা নিরিক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বগুড়াতে রেফার্ড করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-
নিরীক্ষা করে চিকিৎসা প্রদান করে বিশ্রাম দিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
গত শুক্রবার ২৭ মার্চ ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত (২৮ মার্চ) উন্নত চিকিৎসার জন্য, বগুড়া শহরে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দিলে, সুঘাট বাজারে পৌছা মাত্র ভিকটিম মৃত্যু বরণ করেন। ভিকটিমের ছেলে উক্ত তারিখ রাতে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, মামলা নং-২৯। মৃত মতিয়ার রহমান (৬৯), পিতা মৃত জমশের আলী শেখ, সাং শরিফ সুঘাট, শেরপুর-বগুড়া।
অভিযুক্ত আসামীরা হলো ১। মোঃ শাহিন (৪৮), পিতা মৃত মোস্তা খন্দকার, ২। মোঃ রুবেল (২৭), পিতা মোঃ শাহিন, ৩। মোঃ শাহাদত হোসেন (২৮), পিতা মোঃ বেলাল হোসেন, ৪। মোঃ জাফর আলী (২৫), ৫। মোঃ মিল্লাত (২২), ৬। মোঃ জাহিদ (২৯), সর্ব পিতা মোঃ শাহিন, ৭। মোঃ বেলাল (৫৫), পিতা মৃত মোজাহার আলী শেখ, ৮। মোঃ স্বপন (১৯), পিতা মোঃ আজিজ, ৯। মোঃ নুর আলম (৪০), পিতা মৃত তছির আলী, ১০। মোঃ মোস্তাফা (৩২), পিতা মোঃ আঃ খালেক, ১১। মোছাঃ জাহেদা বেগম (৩৫), স্বামী মোঃ শাহিন, ১২। মোছাঃ বেলি বেগম (২৭), পিতা মোঃ বেলাল হোসেন, সর্বসাং শরিফ সুঘাট, থানা-শেরপুর, বগুড়াগণসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করে।
© All rights reserved © 2026 Coder Boss
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.