বগুড়া প্রেসক্লাবে পুনরায় রিমু আক্তারের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বগুড়া প্রতিনিধি:
আজ সোমবাব বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মোছাঃ রিমু আক্তার, আজ পুনরায় আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি এক বুক হাহাকার আর চরম নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে। গত ২৯ অক্টোবর বগুড়া প্রেসক্লাবেই আমি এ্যাপোলো পাওয়ার লিংক-এর স্বত্বাধিকারী মাহবুব সাঈদী এবং তার পালিত সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলাম। আশা ছিল, আপনাদের কলমের মাধ্যমে আমার আর্তনাদ প্রশাসনের কানে পৌঁছাবে। আমি বিচার পাব। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিচারের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদছে।
প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর আমি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু মাহবুব সাঈদী ও তার ম্যানেজার রুবেলের কালো টাকার দাপটে আমি কেবল অবহেলাই পাইনি, বরং উপহার হিসেবে পেয়েছি আরও একাধিক মিথ্যা ও সাজানো মামলা। সাম্প্রতিক একটি মিথ্যা মামলায় (২২৪৯ সি/২০২৪ সদর) প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করিয়ে আমাদের নামে ওয়ারেন্ট বের করিয়েছে। জামিনের জন্য আমার মায়ের সর্বশেষ সম্বল তার হাতের চুড়ি বিক্রি করতে হয়েছে আমাদের। আমরা খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছি। যারা আমাকে নিঃস্ব করেছে, আমার বাবার কষ্টার্জিত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে, আজ তারাই আমাকে এবং আমার পরিবারকে আসামী করে ফেরারি করে বেড়াচ্ছে। আমি থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে আমার পুরো পরিবার মাহবুব সাঈদীর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী ও সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে জিম্মি। আমাদের উপার্জনের একমাত্র পথ, টিএমএসএস হাসপাতালের পিছনের ছোট্ট চায়ের দোকানটিতেও এখন সন্ত্রাসীরা নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। আমার ছোট বোনের শিক্ষা জীবন আজ অন্ধকার, তারা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমার কন্যাদায়গ্রস্থ অসুস্থ বাবার শারিরীক অবস্থাও অনেক খারাপ। পুলিশি হয়রানি ও সমাজের চোখে অপরাধী বানানোর এক নোংরা খেলায় মেতেছে এই প্রভাবশালী চক্রটি।
আমি আজ স্পষ্ট করে বলতে চাই, একজন নারী হিসেবে, একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। একদিকে আমার বাবার হারানো টাকা ও ব্যবসায়িক শেয়ারের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে মিথ্যা মামলার বোঝা আর নিত্যদিনের প্রাণনাশের হুমকি-এই দুর্বিষহ জীবন আর বয়ে বেড়ানো সম্ভব নয়। প্রশাসনের নীরবতা আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য আইনের দরজা বন্ধ।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে শেষবারের মতো জানাতে চাই-যদি অবিলম্বে মাহবুব সাঈদী ও তার সহযোগী রুবেলসহ এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করা না হয় এবং মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা না হয়, তবে আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। যদি আমরা বিচার না পাই, তবে বিচারহীনতার এই অপমান ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে আমি এবং আমার পুরো পরিবার সম্মিলিতভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হব। আমাদের মৃত্যুর জন্য মাহবুব সাঈদী, তার সহযোগী রুবেল এবং প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততাই দায়ী থাকবে।
আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মোছাঃ রিমু আক্তার।
© All rights reserved © 2026 Coder Boss